Helpmate BD
২৭ জুলাই ২০২৬, ৩:৪৪ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশে ট্রেড লাইসেন্স করতে কী কী লাগে? খরচ কত? সম্পূর্ণ গাইড ২০২৬

বাংলাদেশে ট্রেড লাইসেন্স করতে কী কী লাগে? খরচ কত? সম্পূর্ণ গাইড ২০২৬
বাংলাদেশে ট্রেড লাইসেন্স করতে কী কী লাগে? খরচ কত? সম্পূর্ণ গাইড ২০২৬

বাংলাদেশে ট্রেড লাইসেন্স করতে কী কী কাগজপত্র লাগে, আবেদন করার নিয়ম, সরকারি ফি, সম্ভাব্য খরচ এবং নবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। নতুন ব্যবসা শুরু করার আগে এই গাইডটি পড়ুন।

বাংলাদেশে ট্রেড লাইসেন্স করতে কী কী লাগে? খরচ কত? (সম্পূর্ণ গাইড ২০২৬)

আপনি যদি নতুন ব্যবসা শুরু করতে চান, তাহলে প্রথমেই যে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করতে হবে তা হলো ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করা। এটি একটি সরকারি অনুমতিপত্র, যা আপনার ব্যবসাকে আইনগতভাবে পরিচালনা করার অনুমতি দেয়।

ট্রেড লাইসেন্স করতে কী কী লাগে?

সাধারণত নিচের কাগজপত্রগুলো প্রয়োজন হয়—

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্ম নিবন্ধনের কপি
  • ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানার প্রমাণ (বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল বা ভাড়ার চুক্তিপত্র)
  • দোকান বা অফিস ভাড়ার চুক্তিপত্র (যদি ভাড়া হয়)
  • জমির মালিকানা সংক্রান্ত কাগজ (নিজস্ব হলে)
  • ব্যবসার নাম ও ব্যবসার ধরন
  • আবেদন ফরম (সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে)

বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্র লাগতে পারে।

ট্রেড লাইসেন্সের খরচ কত?

ট্রেড লাইসেন্সের খরচ নির্ভর করে—

  • ব্যবসার ধরন
  • ব্যবসার ক্যাটাগরি
  • প্রতিষ্ঠানের অবস্থান
  • স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ফি

সাধারণভাবে সরকারি ফি ও অন্যান্য চার্জ মিলিয়ে প্রায় ৳১,০০০ থেকে ৳১০,০০০ বা তারও বেশি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে নতুন লাইসেন্স, সাইনবোর্ড কর বা অন্যান্য স্থানীয় ফি যোগ হতে পারে।

কোথায় আবেদন করবেন?

আপনার ব্যবসার অবস্থান অনুযায়ী—

  • সিটি কর্পোরেশন
  • পৌরসভা
  • ইউনিয়ন পরিষদ

এর সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স শাখায় আবেদন করতে হবে।

ট্রেড লাইসেন্স কতদিনের জন্য বৈধ?

সাধারণত ট্রেড লাইসেন্স ১ বছরের জন্য বৈধ থাকে এবং প্রতি বছর নির্ধারিত সময়ে নবায়ন (Renew) করতে হয়।

ট্রেড লাইসেন্স কেন প্রয়োজন?

  • ব্যবসাকে আইনগত স্বীকৃতি দেয়।
  • ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়।
  • TIN, VAT এবং অন্যান্য সরকারি নিবন্ধনে সহায়ক।
  • সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে ব্যবসা করতে সুবিধা হয়।
  • গ্রাহকদের কাছে ব্যবসার বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করে।

গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

আবেদন করার আগে আপনার এলাকার সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের সর্বশেষ নিয়ম ও ফি সম্পর্কে জেনে নিন। কারণ স্থানভেদে কাগজপত্র ও ফি ভিন্ন হতে পারে।

 

এন টি ভি নিউজ সাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে জানলাম: 

বাংলাদেশে ট্রেড লাইসেন্স করতে কী কী লাগে? খরচ কত? সম্পূর্ণ গাইড ২০২৬

বাংলাদেশে ট্রেড লাইসেন্স করতে কী কী লাগে? খরচ কত? সম্পূর্ণ গাইড ২০২৬

ট্রেড লাইসেন্স করতে কী কী লাগে, খরচ কত

তিটি উদ্যোক্তার জন্য তার পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের সাপেক্ষে সর্বপ্রথম করণীয় হচ্ছে ট্রেড লাইসেন্স করা। ট্রেড লাইসেন্স ব্যবসায়ীকে দেশের যেকোনো স্থানে তার ব্যবসা পরিচালনা করার স্বাধীনতা দেয়। ব্যবসায়ের অনুকূলে যেকোনো কার্যক্রমের জন্য ট্রেড লাইসেন্স একটি অবধারিত নথি। এর মাধ্যমেই একজন পরিপূর্ণভাবে একজন ব্যবসায়ী হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংক থেকে ঋণ এবং ব্যবসায়িক সংগঠনের সদস্যতা পান। তা ছাড়া প্রতিষ্ঠানের পরিব্যপ্তি বৃদ্ধির নেপথ্যে একটি মোক্ষম বাহক হিসেবে কাজ করে এই অনুমতি পত্রটি। তাই চলুন, জেনে নিই ট্রেড লাইসেন্স করার পদ্ধতি।

ট্রেড লাইসেন্স করার জন্য কোথায় যেতে হয়

ট্রেড লাইসেন্স করার জন্য আবেদনকারীকে প্রথমেই ঠিক করতে হবে যে তার ব্যবসাটি আসলে কোন স্থানীয় সরকারের অধীনে পরিচালিত হবে। স্থানীয় সরকার বলতে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা বা উপজেলা পরিষদকে বোঝায়।

ঢাকা শহরের ক্ষেত্রে কোন অঞ্চল ভিত্তিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালিত হবে তা নির্বাচন করতে হবে। ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রত্যেকটিতে অঞ্চল রয়েছে দশটি করে। অঞ্চলের অফিস থেকেই ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আবেদন ফর্ম পাওয়া যাবে এবং সেখান থেকেই চূড়ান্তভাবে ট্রেড লাইসেন্সটি দেওয়া হবে।

ট্রেড লাইসেন্স-এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

ব্যবসার ধরনের ওপর ভিত্তি করে ট্রেড লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রেও ভিন্নতা আসে।

স্বত্বাধিকারী ব্যবসার ক্ষেত্রে

→ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের অফিস বা দোকান ভাড়ার চুক্তিপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি

অফিস বা দোকান ব্যবসায়ির নিজের জায়গা হলে ইউটিলিটি বিল এবং হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের ফটোকপি। এই অফিস বা দোকানটি অবশ্যই বাণিজ্যিক স্থাপনায় হতে হবে। সাধারণত কোন এলাকায় ভবন দুইভাবে নির্মিত হয়- আবাসিক ও বাণিজ্যিক। যেকোনো ধরনের ব্যবসার অফিস অবশ্যই বাণিজ্যিক ভবনে নিতে হবে, নতুবা ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করা হয় না।

→ স্বত্বাধিকারীর তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি

→ স্বত্বাধিকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র

অংশীদারী ব্যবসার ক্ষেত্রে

→ অফিস বা দোকান ভাড়ার চুক্তিপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি

জায়গাটি অংশীদারদের কারোর নিজের হলে ইউটিলিটি বিল এবং হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের ফটোকপি।

→ ৩০০ টাকার দলিলে অংশীদারী ব্যবসার চুক্তিপত্র

→ ম্যানেজিং পার্টনারের তিন কপি ছবি

→ ম্যানেজিং পার্টনারের জাতীয় পরিচয়পত্র

কোম্পানির ক্ষেত্রে

→ অফিস বা দোকান ভাড়ার চুক্তিপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি

জায়গাটি অংশীদারদের কারোর নিজের হলে ইউটিলিটি বিল এবং হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের ফটোকপি।

→ কোম্পানির সার্টিফিকেট অব ইন-করপোরেশন

→ কোম্পানির মেমরেন্ডাম ও আর্টিকেল অব এসোসিয়েশন

→ ম্যানেজিং ডিরেক্টরের তিন কপি ছবি

→ ম্যানেজিং ডিরেক্টরের জাতীয় পরিচয়পত্র

ট্রেড লাইসেন্স করতে প্রয়োজনীয় খরচ ও সময়

ব্যবসার ধরনের উপর ভিত্তি করে যেভাবে লাইসেন্স পরিবর্তিত হয় ঠিক সেভাবেই বিভিন্ন ব্যবসার লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় খরচের মধ্যেও বেশ তারতাম্য ঘটে।

ঢাকা সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে এই অঙ্কটি নিম্নে এক থেকে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এক নামে একাধিক ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যবসার ধরণ অনুযায়ী খরচ আরও বাড়বে। তবে কোম্পানির ক্ষেত্রে সব ধরনের ব্যবসা এক লাইসেন্স দিয়ে স্বল্প খরচে করা যাবে। সিটি করপোরেশন আদর্শ কর তফসিল-২০১৬-এর বিধিমালা অনুযায়ী ট্রেড লাইসেন্সের এই খরচের হার নির্ধারণ করা হয়।

এ ছাড়া এর সঙ্গে আকৃতি অনুসারে সাইনবোর্ড ফি, লাইসেন্স বইয়ের খরচ ও এগুলোর উপর ১৫ শতাংশ ভ্যাটের খরচ আছে।

ট্রেড লাইসেন্সের আনুষাঙ্গিক খরচাদি আবেদন ফর্মে উল্লেখিত ব্যাংকগুলোতে জমা দেওয়ার মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়।

ট্রেড লাইসেন্স প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে আবেদন ফর্ম জমা দেওয়ার দিন থেকে পাঁচ অথবা সাত কর্মদিবস।

ধাপে ধাপে ট্রেড লাইসেন্স করার পদ্ধতি

ধাপ-১/ প্রথম কাজ হচ্ছে ব্যবসায়িক কেন্দ্রের জন্য সঠিক অঞ্চল নির্ধারণ করা।

ধাপ-২/ আই ফর্ম এবং কে ফর্ম নামে ট্রেড লাইসেন্স আবেদনের দুটি ভিন্ন ধরনের ফর্ম আছে। ছোট কিংবা সাধারণ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য আই ফর্ম এবং বড় ব্যবসার ক্ষেত্রে কে ফর্ম সংগ্রহ করতে হয়। প্রতিষ্ঠানটি যে অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত সেই অঞ্চলের অফিস থেকেই এই ফর্মগুলো সংগ্রহ করা যাবে, যেগুলোর প্রতিটির দাম ১০ টাকা।

ধাপ-৩/ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে ট্রেড লাইসেন্সের ফি ভ্যাটসহ জমা দিয়ে রশিদ সংগ্রহ করতে হবে।

ধাপ-৪/ ব্যবসার ধরন অনুযায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন ফর্মটির সঙ্গে ব্যাংকে ফি জমা রশিদটি সংযুক্ত করে স্থানীয় সরকারের অফিসে জমা দিতে হবে।

ধাপ-৫/ স্থানীয় সরকারের অধিভূক্ত আঞ্চলিক অফিস থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা ব্যবসায়িক কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে অফিসে রিপোর্ট করবেন।

ধাপ-৬/ পূর্ববর্তী প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে এই চূড়ান্ত পর্যায়ে ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া যাবে সেই আঞ্চলিক অফিস থেকে।

ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন

প্রতিটি নতুন ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ থাকে এক বছর। স্বভাবতই ট্রেড লাইসেন্সের কার্যকারিতা বহাল রাখতে হলে প্রতি বছরই ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়।

ট্রেড লাইসেন্স নতুন করার সময় যে সরকারি ফিগুলো প্রদান করা হয় তা হলো, ট্রেড লাইসেন্স ফি, সাইন বোর্ড ফি এবং এই দুটো মিলে যত টাকা হয় তার উপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট। আর ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের সময় এই খরচগুলোর সাথে যোগ হয় উৎসকর, যেটি সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে তিন হাজার টাকা। ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার ক্ষেত্রে এটি কিছুটা কম হয়।


উপসংহার

যেকোনো ব্যবসা আইনগতভাবে পরিচালনার জন্য ট্রেড লাইসেন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত রেখে আবেদন করলে সহজেই ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করা যায়। ব্যবসা শুরু করার আগে অবশ্যই আপনার এলাকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

Loading

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশে ট্রেড লাইসেন্স করতে কী কী লাগে? খরচ কত? সম্পূর্ণ গাইড ২০২৬

টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস (Tungipara Express)–এর প্রধান কাউন্টার ও ফোন নম্বরগুলো

ইমাদ পরিবহন সকল কাউন্টার নম্বর ২০২৬ | ঢাকা, খুলনা, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, কক্সবাজার

বাংলাদেশজুড়ে প্রতিবাদ, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল ঘটনার জেরে উত্তেজনা

আশাশুনির আনুলিয়ায় এমপি প্রার্থী রবিউল বাশারের নির্বাচনী প্রচারনা

উত্তরা মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত

জামায়াতের জাতীয় সমাবেশ চলছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, ‘ প্রথম পর্যায়ের কর্মসূচি ‘

সমাবেশে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় দাকোপ উপজেলা জামায়াতের আমিরসহ দুজন নিহত

টুংগীপাড়া এক্সপ্রেস যাত্রীদের ভোগান্তি হল আজ

🎤 Sigma Rules: জীবনের সেরা লিডার হওয়ার পথ!

১০

গোল্ডেন লাইন পরিবহনের কাউন্টার এবং মোবাইল নম্বর

১১

কোহলি থেকে আনুশকা, রোহিত শর্মা থেকে ঋত্বিকা, ভারতীয় ক্রিকেটারদের প্রেমের গল্প

১২

Islami Bank Bangladesh PLC SWIFT Code Details

১৩

নাবিল পরিবহন বাসের সকল কাউন্টার নাম্বার

১৪

পিএসএলে সবচেয়ে দামি ১০ ক্রিকেটার কারা

১৫

হানিফ এন্টারপ্রাইজ বাসের সকল কাউন্টার নাম্বার চট্টগ্রাম জোন

১৬

হানিফ এন্টারপ্রাইজ বাসের সকল কাউন্টার নাম্বার ঢাকা জোন

১৭

এসপি গোল্ডেন লাইন বাসের সকল কাউন্টার নাম্বার

১৮

আবারও কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়লেন নেইমার

১৯

আমার সম্পত্তি যেভাবে জব্দ করা হয়েছে, তা আমার মনে হয় না স্বাভাবিক: সাকিব

২০